প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 17, 2026 || প্রকাশের তারিখঃ Jan 12, 2026
প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির মহাযজ্ঞে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ছাত্রশিবির
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি ছাত্রশিবিরের
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির ভয়াবহ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ উদ্বেগ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় একযোগে ১৮ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁস ও সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। শুধুমাত্র গাইবান্ধা জেলায় ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জামালপুরে ৪ জন, নওগাঁয় ৯ জন, কুড়িগ্রামে ১১ জন, দিনাজপুরে ১৬ জন, রংপুরে ২ জন, টাঙ্গাইলে ৫ জন এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ জনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে।
তারা বলেন, এসব ঘটনা পুরো নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন বিশেষ সহকারী পদমর্যাদার ব্যক্তির ড্রাইভারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতা ও নজরদারির ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বারবার ব্যর্থতার কারণে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অর্থ ও প্রভাবশালী জালিয়াত চক্রকে সুবিধা দেওয়ার একটি সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে, যা শিক্ষাঙ্গনে নৈতিক অবক্ষয় ও জাতির ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বিবৃতিতে প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সকলকে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সবশেষে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।